সবে মাত্র প্রাইমারী পাশ করে হাইস্কুলে পড়ি । স্কুলে যায় আসি সবার সাথে ভাল সম্পর্ক রেখে চকাফেরা করি সবাই আমাকে ভাল বাসে। দেখতে দেখতে ৩টি বছর কেটে গেল,এর মাঝে স্কুলে আমার অনেক সুনাম ছড়িয়ে পড়িল লেখাপড়া ও খেলাধুলার জন্য বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমি দৌড়,ঝাপ,বিভিন্ন খেলায় ছিলাম পারদর্শি । আমার স্কুলের পাশে ছিল বালিকাবিদ্যালয়। ঔ বিদ্যলয়ের ১টি মেয়ে আমাকে একদিন বলিল। আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে আপনি কি আমাকে একটু সময় দিবেন, আমি তার নিকট জিঙ্গাসা করিলাম,কি কারনে আমার সাথে কথা বলিতে চাও,সে কোন কিছু ভনিতা না করিয়া সুজাসুজি বলিল আপনাকে আমার খুব ভাল লাগে, আমি আপনার সাথে প্রেম করিতে চাই। আমি বলিলাম তোমার সাথে প্রেম করার সময় আমার নেই এবং প্রেম করার বয়স এখনও হয়নি। তুমি এখন আসতে পার,এটা সত্য কথা যে তখন প্রেম ট্টেম বুঝর বয়স হয়নি।তাই তাকে ঐভাবে বললাম বলাল পর মেয়েটার মুখটা ফেকাসে হয়ে গেল,এবং কোন কথা না বলে চলে গেল। সেদিনের সেই মেয়েটার করুন মুখের ছবি আজও আমার হূদায়ে ভেসে ওঠে,সময় কারুর জন্য বসে থাকে না,এস,এস, এইচ,এসসি....... পাশ করে যখন মাষ্টার পড়ি ,বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়ীতে আসলাম কারণ বেশ কিছু দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে তাই গ্রামে এলাম, হঠাৎ একটি মেয়ের সাথে আমার দেখা হলো আমি মেয়েটিকে দেখে অবাক নয়নে তাকিয়ে দেখতে থাকলাম আর চিন্তা করছি কে এই মেয়েটি, আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করিলাম এই মেয়েটিকে আমার বন্ধু বলিল কেন চিনতে পারছিস না, আমি বলিলাম ভনিতা ছেড়ে মেয়েটিকে সেটা আমাকে বল। সে আমাকে বলিল তুই দেখছি ভাজা মাছ উলটে খেতে জানিস না,ঐ মেয়েটি হলো,তোমার কাছে প্রেম নিবেদন করেছিল সেই শিরিন আমি নিজের চোখে বিশ্বাস করিতে পারছিলাম না । কারণ ও এত সুন্দর হলো কিভাবে
শিরিনকে দেখে আমার ভীষণ ভাল লাগল,অপলক দূষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম, আর মনে মনে কল্পনা করছি এই কি সেই শিরিন যে আমার সাথে প্রেম করতে চেয়েছিল। হায় বিধাতা তোমার লিলা বুঝা মুসকিল। যাকে আমি ফিরিয়ে দিয়েছলাম আজ তাকে আমি মুগ্ধ নয়নে তার দিকে তাকিয়ে আছি। আমি তার দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম কিন্ত কি বলিব এবং কি ভাবে তার সাথে কথা বলিব সাত পাঁচ ভাবতে লাগলাম, এরই মাঝে শিরিনই আমাকে বলল এই যে মশাই অমন করে কি দেখছেন। আমি আমতা আমতা করে বললাম না কিছু না সে আমাকে কিছু না বললেই হল কিছু যে একটা বলতে এসেছ সেটা আপনার মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে। হাঁ আমি মানে আর মানে মানে করতে হবে না অমন করে আপনি কি? দেখছিলেন ।না মানে আমি প্রথমে তোমাকে দেখে ঠিক চিনতে পারছিলাম না তাই ঐ ভাবে তাকিয়ে ছিলাম তোমার নাম শিরিন তাই না , যাক নামটা তাহলে মনে আছে সাহেবের। আপনি এখন কি করছেন কিছু না সবে মাত্র লেখা পড়া শেষ করলাম, এখন ভাল কোন চাকুরি পেলে ডুকে পড়ব । শিরিন আমার দিকে তাকিয়ে বলিল তারপর ? হেসে হেসে বলিলাম তারপর তোমার মত একটা সুন্দরী মেয়ে পেলে বিয়ের পিঁড়িতে বসব। শিরিন আমার দিকে তাকিয়ে ভীষণ লজ্জা পেল । এবং নীচের দিকে তাকিয়ে বলিল এই যে মিঃ আপনি যেমন লেখা পড়া শেষ করেছেন আমিও লেখা পড়া শেষ কারি তারপর না হয় দেখা যাবে। আমি শিরিনকে বলিলাম তুমি যদি আমাকে কথা দাও তবে আমি তোমার জন্য সারা জীবন অপেক্ষা করব ,শিরিন তখন আমাকে বলিল আমাকে একটু ভাবার সময় দিতে হবে । আমি বলিলাম কতদিন পরে আমি উত্তর পাব শিরিন কিছু সময় চুপ থাকার পর বলিল দুই দিন পর আমি সেদিনে মত চলে গেলাম । বাসায় যাওয়ার পর কোন কাজে মন বসছে না কারুর সাথে ঠিক মত কথাও বলছি না । আমার মনে কি হয়েছে সেটা আমি নিজেই জানি না । ঠিক দুইদিন পরের ঘটনা শিরিনের এক বান্ধবী নাম তানিয়া আমাদের বাড়ীতে এসে আমার ছোট বনের নিকট আমার খোঁজ করিল আমার বোন বলিল ভাইয়াকে খোঁজার কারণ কি? জানতে চাইল । শিরিননের বান্ধবী আমার বোনকে বলিল শিরিন তোমার ভাইয়ার সাথে কি জেন্ বলিবে তাই আরকি । এখন তো বিকাল তাই ভাইয়াকে নদীর ধারে পেতে পার । এ কথা শুনে শিরিনর বান্ধবী তানিয়া আমাদের বাড়ী থেকে চলে গেল। এদিকে আমি নদীর ধারে কাশ বনের পাশে একা একা বসে আছি আর দেখছি এবং মনে মনে আকাশ কুসুম ভাবছি হঠাৎ দেখলাম একটি মাছ রাঙ্গা নদীর জল থেকে একটি ছোট মাছ ধরে নিয়ে পাশে বাবলা গাছে বসে খাচ্ছে আমি অপলক দুষ্টিতে দেখছি। নিরর্জনে একা একা এমন দৃর্শ্র দেখা খুব দুরহ ,আর মনে মনে কল্পনা করছি এমন নিরিবিলি পরিবেশে যদি শিরিন এর সাথে বসে কিছু সময় গল্প করিতে পারতাম তবে মনটা খুশিতে ভরে যেত, আমি কল্পনা জগতে ভাসছি হঠাৎ আমার কাধে একটি নরম হাতের ছুযায় আমার হুস ফিরে আসল এবং ঘাড় ফিরিইয়ে দেখি শিরিন দাড়িয়ে আছে , আমি কি? ঠিক দেখছি তো নিজের গায়ে চিমটি কেটে দেখলাম আমি ঠিক আছি কিনা। আমি শিরিনকে বলিলাম তুমি কি করে জানলে আমি এখানে আছি। শিরিন দুষ্ঠমি করে বলিল আমার মনের চোখ দিয়ে তোমাকে দেখেছি।গোধুলিবেলায় পশ্চিম আকাশে সূর্য মামা পাঠে বসেছে পাখিরা সব নিজ নিজ নীড়ে ফিরতে শুরু করেছে । সব মিলিয়ে এমন একটি পরিবেশ সূষ্টি হয়েছে সেটা ভাষায় বুঝানো সম্ভাব নয় । আমি শুধু শিরিনকে বলিলাম এলে ঠিকই কিন্ত আর একটু আগে কেন এলে না । এমনি সময় আমার মনের মাঝে এমন এক শিহরণ খেলে যাচ্ছে । আমি মনে মনে ভাবছি এরই নাম কি? প্রেম। চারিদিকে সন্ধ্যা ঘুনিয়ে আসছে। আমি শিরিনকে বলিলাম চল বাড়ীতে ফেরা যাক , কেউ দেখে ফেললে বদনাম হবে। দুই জন যুবক যুবতী অন্ধকারে পাশা পাশি হাত ধরাধরি করে বাড়ীরতে ফিরছি। সে যে কি? অনুভুতি এবং শিহরণ সে কথা বলে বুঝানো সম্ভাব নয়। গ্রামের কাছে আসার পর শিরিনকে বলিলাম আগামী কাল আবার দেখা হবে না,শিরিন লাজুক কন্ঠে বলল কেন আজকে দেখে কি সাদ মিটিনি যে কাল আবার আসতে হবে । এই যে মশায় আমি আগামী কাল মামার বাড়ীতে বেড়াতে যাব এবং কয়েক দিন পর আসব, তুমি মন খারাপ করিও না সোনা শিরিননের কথা শুনার পর আমার মনের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠল কিন্ত আমি তাকে কিছু বলিতে পারলাম না শুধু এই টুকু বললাম বেশি দিন দেরি করিবে না । শিরিন দুষ্টুমি করে বলিল কেন আমি তোমার কে যে তোমার আদেশ আমাকে মানতে হবে। আমি যে কে তোমার সেটা কি? তুমি এখন ও বুঝতে পারনি আমার চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল এই দূশ্য দেখে শিরিন বলিল আমি তোমায় কষ্ট দেওয়ার জন্য বলিনি লক্ষটি মন খারাপ করিও না আমি যত তাড়াতাড়ি পারি চলে আসব কেমন। এবার একটু হাঁস , তোমার ঐ মুখের হাঁসিটা আমার সাথে রহিল । আসি কেমন যাবার সময় আমি শিরিননের হাতটি ধরে একটি চুমু দিলাম ,এবং বিদায় দিয়ে চলে আসলাম। এ দিকে আমার যে কি হল আমি নিজেই ভেবে পাচ্ছি না,সারা রাত দুচোখে ঘুম নেই খাওয়া নেই শুধু মনে হচ্ছে কি যেন আমার কাছে থেকে হারিয়ে গেছে। মনে মনে ভাবছি কখন ভোর হবে এবং কখন আবার শিরিননের সাথে দেখা হবে। আমার এমন অবস্থা হলো শিরিন ছাড়া আমি এক মুহুত্ত থাকতে পারবো না । আমার যে কি হল আমি নিজেই জানিনা । যে দিকে তাকায় সেদিকে বার বার শুধু একটি মুখের ছবি আমার হৃদায়ে আয়নায় ভেসে ওঠে শিরিননের মুখের ছবি। আমি কি করিব ভেবে পাচ্ছিনা বাড়ীতে বেকার বসে আছি মনে মনে ভাবছি যত দিন চাকুরি না হয় ততদিন কিছু একটা করতে হবে আমি বাড়ী থেকে জেলা শহরে আমার এক বন্ধুর নিকট গেলাম এবং তাকে আমার বেকারত্বের কথা বললাম সে আমাকে বলিল বন্ধু চাকরি বাকরি বাদ দিয়ে তোমাদের মত শিক্ষিত ছেলেদের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন আমি তাকে বলিলাম দেখ রাজনীতিতো রাজার নীতি কিন্তু বর্তমানে রাজার নীতি নেই কারুর বিরুদ্ধে গেলে মিথ্যা মাললা দিবে তখনতো জেল জরিপানা হবে সে আমাকে বলিল আরে না একটু সাবধানে চললে কিছু হবে না ।আমি তার কথা মত রাজনীতিতে সক্রয়ভাবে যোগদিলাম এবং কিছু যেতে না যেতে আমার সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল এটা আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল আমাকে মিথ্যা অপবাদ ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হলো এরই মাঝে শিরিনের সাথে আমার দূরত্ব বাড়তে থাকল চলবে........
0 Comment "শৈসবের প্রেম "
Post a Comment