পদ্মার কোলে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে
ছেয়ে থাকা দক্ষিণ জনপদের দ্বারপ্রান্তের পাকশী বেড়ানোর এক অপরূপ নিসর্গে পরিণত হয়েছে।
এখানে এলে রূপসী পদ্মার ঢেউয়ের কলধ্বনি, চারদিকে সবুজের বেষ্টনী ও উত্তাল হাওয়ার পরশে
যেমন হৃদয় ভরিয়ে দেয়,তেমনি এ এলাকায় রয়েছে ইতিহাস ও প্রাচীন কীর্তিসহ বিংশ শতাব্দীর
প্রথম ও দেশের বৃহত্তম রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লালন শাহ
সেতু।এছাড়াও এখানকার সৌন্দর্য রেলওয়ে কলোনির সুদৃশ্য ভবন আর এখানকার অফিস।কলোনির ভেতর
পিচঢালা পথ আর বিশাল বিশাল সব রেইনট্রি দিয়ে শোভিত।রেল কলোনি মাঠটিও রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের
কার্যালয়ের পাশে। একসময় কলকাতা কাঁপানো বড় বড় ক্লাব এই মাঠে ফুটবল ম্যাচ খেলে গেছে।আছে
বাবুপাড়া, মেরিনপাড়া, এমএস কলোনী, মুন্সিপাড়া এবং পেপারমিল কলোনী। এখানে রেস্টহাউস
আছে দুটি—একটি
অফিসার্স রেস্টহাউস, অন্যটি বেসরকারী (পাকশী রিসোর্ট)। অনুমতি সাপেক্ষে যে কেউ এখানে
থাকতে পারেন।সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্মৃতিচিহ্নে সমৃদ্ধ পাকশী পর্যটনের
মনোরম স্পটে সমৃদ্ধ হয়েছে। দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি
অন্যতম স্থান।
প্রতিদিন শত-সহস্র দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর হয়ে থাকে পাকশী-পদ্মার উভয় পাড়। সকাল-বিকাল মনে হয় যেন এক মিলনমেলা। চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।পাকশীর অন্যতম কীর্তি হলো হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দক্ষিণ পাশে লালন শাহ সেতু। যমুনা সেতুর অনুরূপ লালন শাহ সেতু বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু।প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর ১ হাজার ৭৮৬ মিটার দৈর্ঘের এবং ৭.৫ মিটার দুই লেনবিশিষ্ট এ সেতুটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে এবং সেতুর উভয় পাড়ে দুটি টোল প্লাজা যেন আরও শ্রীবৃদ্ধি করেছে। এ সেতুর পূর্ব প্রান্তে ১০ কিমি. ও পশ্চিম প্রান্তে ৬ কিমি. রাস্তাটি সৌন্দর্য কেড়েছে। লালন শাহ্ সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।হার্ডিঞ্জ ব্রিজ প্রবীণদের কাছে ‘সাড়াপুল’। আজ যাদের বয়স ৮০/৯০ বছর তাদের কাছে সাড়া পুল ছিল এক স্বপ্ন। যমুনায় সেতু যেমন এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন তেমনি পাকশীর লালন শাহ সেতু স্বপ্নের বাস্তবায়ন। প্রবীণরা জানান, ১৮৯০ সালে শিলিগুড়ি মিটারগেজ রেলপথ স্থাপিত হলে প্রমত্তা পদ্মার এক তীরে সাড়াঘাট ও অন্য তীরে দামুকদিয়া ঘাটের মধ্যে চলাচল শুরু হয় রেল, ফেরি ও স্টিমার। ১৯১০ সালে পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে পদ্মার গতিকে নিয়ন্ত্রণ করা ছিল অত্যন্ত দুরূহ কাজ। এই দুরূহ কাজ করতে গিয়ে বিশ্বে প্রথম রিভার ট্রেনিং ও গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হয় পদ্মার উভয় পাড়ে।প্রায় ৮ কিলোমিটার উজান থেকে গাইড ব্যাংক বেঁধে এনে ১৯১২ সালে শুরু হয় রেল সেতুর কাজ।এরপর নরম পলিমাটিতে স্প্যান নির্মাণ ছিল আরেকটি দুরূহ কাজ। রিভার বেড বা নদী শয্যার নিচে ১৯০ থেকে ১৬০ ফুট গভীরতায় কূপ খনন করে স্থাপিত হয় স্প্যান। এভাবে প্রতিটি ৫২ ফুট উচ্চতার ১৫টি স্প্যান ও দু’পাশে শক্ত কাঠামোর ল্যান্ড স্প্যানের ওপর ৫ হাজার ৮৯৪ ফুট দীর্ঘ রেল সেতু নির্মাণ করা হয়, যা আজ এক অমর কীর্তি হিসেবে স্থান পেয়েছে।তত্কালীন প্রকৌশলী জগতের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব রবার্ট উইলিয়াম গেইলস ও ফ্রান্সিস স্পিংয়ের নকশায় ব্রেইন্স ওয়ালটি অ্যান্ড ক্রিম নামের প্রতিষ্ঠান এ রেল সেতু নির্মাণ করে। ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি মালবাহী বগি নিয়ে একটি ইঞ্জিন সেতু অতিক্রম করে।জানা গেছে, সোনা মিয়া নামে এক চালক প্রথম ইঞ্জিন নিয়ে পাড়ি দেন সেতু। এরপর ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ তত্কালীন ভাইস লর্ড হার্ডিঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে সে সময়ের বৃহত্তম রেল সেতুটির উদ্বোধন করেন।সেই থেকে প্রথম ডবল লাইনের এই রেল ব্রিজের নাম হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে এই সেতু।এখানে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের পাশে রয়েছে ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে রূপসা-বাগেরহাট সেকশনে চালু হওয়া প্রথম ন্যারোগেজ ট্রেন-ইঞ্জিনটি।তার পাশেই আছে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় নিক্ষিপ্ত বোমার অংশবিশেষ।বিজয় অর্জনের মাত্র ৫ দিন আগে, ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমান বাহিনীর বোমার আঘাতে দ্বাদশ স্প্যানটি দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে পদ্মা নদীতে পরে যায় এবং নবম স্প্যানটির নিচের অংশ মারাত্মক ভাবে দুমড়ে যায়। ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারে সাড়া দেয় বিশ্ব সংস্থা। ব্রিটিশ ও ভারত সরকার অতি দ্রুত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ মেরামত করে দেয়। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পুনরায় রেল চলাচল শুরু হয়।আরও দেখার মতো রয়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্থপতি রবার্ট উইলিয়াম গেইলসের তৈরি একটি বাংলো।প্রকৌশলী উইলিয়াম গেইলের নামানুসারে ‘গেলে কুঠি’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে বাংলোটি। এই বাংলোতে বসেই তিনি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নকশা জরিপ এবং নির্মাণ কৌশল উদ্ভাবন করেন।বাংলোটিও তাই কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। খুব সহজেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে এটি। রেল বিভাগের শহর পাকশীর আরেক ঐতিহ্য ন্যারো গেজ রেলপথ। বর্তমান প্রজন্মের কাছে রেলপথের ব্রড গেজ ও মিটার গেজ অতি পরিচিত। একদিন এ দেশেই ছিল মিটার গেজ ও ছোট ন্যারো গেজ রেলপথ। পাকশী রেল বিভাগের অফিসের সামনে দেখা মেলে ন্যারো গেজ রেলপথ ও বাষ্পচালিত ইঞ্জিন। সবই কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে।পাকশীতে আরও দেখা যায় চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যালয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল ভারতের প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষসহ বহু গুণীজনের। শিক্ষার প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠটি দেখতে গেলে একবিংশ শতাব্দীতে প্রবেশের মুখে স্মৃতির দুয়ার খুলে নিয়ে যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস এ রূপপুর বাজারেরই এক কড়ইতলায় কাশেম মোল্লার চায়ের দোকানে বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের খবর শুনতেন আশপাশের গ্রামের মানুষ। সেই থেকেই বিবিসি বাজার নামে আজও পরিচিত হয়ে আছে বাজারটি।এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগীয় অফিস, উত্তরবঙ্গের কাগজ কল, ইপিজেড ও ঐতিহাসিক ভারতবর্ষের ফুরফুরা খানকা শরীফ এবং পাকশী রিসোর্ট।এ ছাড়া ঘুরে আসতে পারেন ঈক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ইত্যাদি। আরও দেখার মতো রয়েছে ভেড়ামারা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জিকে সেচ প্রকল্প।
প্রতিদিন শত-সহস্র দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর হয়ে থাকে পাকশী-পদ্মার উভয় পাড়। সকাল-বিকাল মনে হয় যেন এক মিলনমেলা। চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।পাকশীর অন্যতম কীর্তি হলো হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দক্ষিণ পাশে লালন শাহ সেতু। যমুনা সেতুর অনুরূপ লালন শাহ সেতু বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু।প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর ১ হাজার ৭৮৬ মিটার দৈর্ঘের এবং ৭.৫ মিটার দুই লেনবিশিষ্ট এ সেতুটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে এবং সেতুর উভয় পাড়ে দুটি টোল প্লাজা যেন আরও শ্রীবৃদ্ধি করেছে। এ সেতুর পূর্ব প্রান্তে ১০ কিমি. ও পশ্চিম প্রান্তে ৬ কিমি. রাস্তাটি সৌন্দর্য কেড়েছে। লালন শাহ্ সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।হার্ডিঞ্জ ব্রিজ প্রবীণদের কাছে ‘সাড়াপুল’। আজ যাদের বয়স ৮০/৯০ বছর তাদের কাছে সাড়া পুল ছিল এক স্বপ্ন। যমুনায় সেতু যেমন এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন তেমনি পাকশীর লালন শাহ সেতু স্বপ্নের বাস্তবায়ন। প্রবীণরা জানান, ১৮৯০ সালে শিলিগুড়ি মিটারগেজ রেলপথ স্থাপিত হলে প্রমত্তা পদ্মার এক তীরে সাড়াঘাট ও অন্য তীরে দামুকদিয়া ঘাটের মধ্যে চলাচল শুরু হয় রেল, ফেরি ও স্টিমার। ১৯১০ সালে পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে পদ্মার গতিকে নিয়ন্ত্রণ করা ছিল অত্যন্ত দুরূহ কাজ। এই দুরূহ কাজ করতে গিয়ে বিশ্বে প্রথম রিভার ট্রেনিং ও গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হয় পদ্মার উভয় পাড়ে।প্রায় ৮ কিলোমিটার উজান থেকে গাইড ব্যাংক বেঁধে এনে ১৯১২ সালে শুরু হয় রেল সেতুর কাজ।এরপর নরম পলিমাটিতে স্প্যান নির্মাণ ছিল আরেকটি দুরূহ কাজ। রিভার বেড বা নদী শয্যার নিচে ১৯০ থেকে ১৬০ ফুট গভীরতায় কূপ খনন করে স্থাপিত হয় স্প্যান। এভাবে প্রতিটি ৫২ ফুট উচ্চতার ১৫টি স্প্যান ও দু’পাশে শক্ত কাঠামোর ল্যান্ড স্প্যানের ওপর ৫ হাজার ৮৯৪ ফুট দীর্ঘ রেল সেতু নির্মাণ করা হয়, যা আজ এক অমর কীর্তি হিসেবে স্থান পেয়েছে।তত্কালীন প্রকৌশলী জগতের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব রবার্ট উইলিয়াম গেইলস ও ফ্রান্সিস স্পিংয়ের নকশায় ব্রেইন্স ওয়ালটি অ্যান্ড ক্রিম নামের প্রতিষ্ঠান এ রেল সেতু নির্মাণ করে। ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি মালবাহী বগি নিয়ে একটি ইঞ্জিন সেতু অতিক্রম করে।জানা গেছে, সোনা মিয়া নামে এক চালক প্রথম ইঞ্জিন নিয়ে পাড়ি দেন সেতু। এরপর ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ তত্কালীন ভাইস লর্ড হার্ডিঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে সে সময়ের বৃহত্তম রেল সেতুটির উদ্বোধন করেন।সেই থেকে প্রথম ডবল লাইনের এই রেল ব্রিজের নাম হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে এই সেতু।এখানে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের পাশে রয়েছে ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে রূপসা-বাগেরহাট সেকশনে চালু হওয়া প্রথম ন্যারোগেজ ট্রেন-ইঞ্জিনটি।তার পাশেই আছে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় নিক্ষিপ্ত বোমার অংশবিশেষ।বিজয় অর্জনের মাত্র ৫ দিন আগে, ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমান বাহিনীর বোমার আঘাতে দ্বাদশ স্প্যানটি দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে পদ্মা নদীতে পরে যায় এবং নবম স্প্যানটির নিচের অংশ মারাত্মক ভাবে দুমড়ে যায়। ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারে সাড়া দেয় বিশ্ব সংস্থা। ব্রিটিশ ও ভারত সরকার অতি দ্রুত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ মেরামত করে দেয়। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পুনরায় রেল চলাচল শুরু হয়।আরও দেখার মতো রয়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্থপতি রবার্ট উইলিয়াম গেইলসের তৈরি একটি বাংলো।প্রকৌশলী উইলিয়াম গেইলের নামানুসারে ‘গেলে কুঠি’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে বাংলোটি। এই বাংলোতে বসেই তিনি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নকশা জরিপ এবং নির্মাণ কৌশল উদ্ভাবন করেন।বাংলোটিও তাই কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। খুব সহজেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে এটি। রেল বিভাগের শহর পাকশীর আরেক ঐতিহ্য ন্যারো গেজ রেলপথ। বর্তমান প্রজন্মের কাছে রেলপথের ব্রড গেজ ও মিটার গেজ অতি পরিচিত। একদিন এ দেশেই ছিল মিটার গেজ ও ছোট ন্যারো গেজ রেলপথ। পাকশী রেল বিভাগের অফিসের সামনে দেখা মেলে ন্যারো গেজ রেলপথ ও বাষ্পচালিত ইঞ্জিন। সবই কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে।পাকশীতে আরও দেখা যায় চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যালয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল ভারতের প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষসহ বহু গুণীজনের। শিক্ষার প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠটি দেখতে গেলে একবিংশ শতাব্দীতে প্রবেশের মুখে স্মৃতির দুয়ার খুলে নিয়ে যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস এ রূপপুর বাজারেরই এক কড়ইতলায় কাশেম মোল্লার চায়ের দোকানে বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের খবর শুনতেন আশপাশের গ্রামের মানুষ। সেই থেকেই বিবিসি বাজার নামে আজও পরিচিত হয়ে আছে বাজারটি।এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগীয় অফিস, উত্তরবঙ্গের কাগজ কল, ইপিজেড ও ঐতিহাসিক ভারতবর্ষের ফুরফুরা খানকা শরীফ এবং পাকশী রিসোর্ট।এ ছাড়া ঘুরে আসতে পারেন ঈক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ইত্যাদি। আরও দেখার মতো রয়েছে ভেড়ামারা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জিকে সেচ প্রকল্প।
0 Comment "কিছু ছবি-বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিকল্পিত, সুন্দর ও ঐতিহাসিক ইউনিয়ন"
Post a Comment